
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পার-পাঁচুপুর, মধুগুড়নই, তেঁতুলিয়া, বৈটাখালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষক মধুগুড়নই গ্রামের আব্দুল করিম জানান, বাদাম পরিপক্ব হওয়ার আগেই হঠাৎ বন্যার পানি চলে আসায় তারা বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে বাদাম তুলছেন। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ বাদাম উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ বাদামের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে এক বিঘা জমি থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করা সম্ভব হলেও এবার ১০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষক আজমল সাকিদার ও তোফায়েল হোসেন জানান, তারা তিন বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলেন। আরও কিছুদিন ফসল জমিতে রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন দিনে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক বাদাম ইতোমধ্যে পচে গেছে। ফলে এবার প্রতি বিঘায় দুই মণ বাদামও উৎপাদন হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আরেক কৃষক খোকা বলেন, প্রতিবছরই তারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাদাম চাষ করেন। তবে চলতি বছর হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কৃষকদের ফসল রক্ষায় সুইচগেট খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















