শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী হত্যা: মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পর নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানের ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এক নারী, যিনি চোখে চশমা ও মুখে মাস্ক পরা ছিলেন এবং সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু ছিল, তাঁকে তদন্তের প্রধান সূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা স্বীকার করেছেন যে তিনি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁদের সর্বস্ব লুট করতেন। ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় টার্গেট খুঁজতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ফাতেমা বেগম ও তাঁর স্বামীর পরিচয় হয়। পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে স্টারলাইট ফার্মেসিতে যান এবং বিশ্বাস অর্জনের পর ফাতেমা বেগমকে নিজের সঙ্গে নিয়ে রিকশায় ওঠেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের কাছে থাকা একটি জুসে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

পুলিশ জানায়, অচেতন অবস্থায় ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মঞ্চ ধস, নিচে পড়ে যান অর্থমন্ত্রীসহ অতিথিরা; পরে হুড়োহুড়িতে আহত ১০–১২

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রী হত্যা: মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পর নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানের ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এক নারী, যিনি চোখে চশমা ও মুখে মাস্ক পরা ছিলেন এবং সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু ছিল, তাঁকে তদন্তের প্রধান সূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা স্বীকার করেছেন যে তিনি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁদের সর্বস্ব লুট করতেন। ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় টার্গেট খুঁজতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ফাতেমা বেগম ও তাঁর স্বামীর পরিচয় হয়। পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে স্টারলাইট ফার্মেসিতে যান এবং বিশ্বাস অর্জনের পর ফাতেমা বেগমকে নিজের সঙ্গে নিয়ে রিকশায় ওঠেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের কাছে থাকা একটি জুসে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

পুলিশ জানায়, অচেতন অবস্থায় ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।