
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিক গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তজেলা গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের ধাওয়া, পিকআপ নিয়ে পালানোর চেষ্টা এবং জলাশয়ে লুকিয়ে থাকার ঘটনায় পুরো অভিযান নাটকীয় রূপ নেয়। অভিযানে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিশেষ টিম গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রথমে কুখ্যাত গরু চোর আসলামকে শনাক্ত করা হয়।
গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়ার নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের যৌথ দল র্যাবের সহায়তায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে আসলামকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম জানায়, তাদের চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি আন্তজেলা চক্র রয়েছে। চক্রের সদস্যদের বাড়ি নওগাঁ, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট ও বগুড়ায়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে গরু কিনে নেওয়ার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। সে আরও জানায়, ১৫ জুলাই ভোরে নাটোরের সিংড়া এলাকা থেকে তারা আবারও গরু চুরির উদ্দেশ্যে একটি পিকআপ নিয়ে বের হবে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জাকারিয়ার নেতৃত্বে রানীনগর থানা পুলিশের বিশেষ দল সিংড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড় চৌগ্রাম বাজার এলাকায় ওত পেতে থাকে। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সন্দেহভাজন একটি পিকআপ সেখানে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পালানোর সময় পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চলতে থাকে এবং কয়েকবার পুলিশের গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ছোট চৌগ্রাম এলাকায় ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত করে। একপর্যায়ে পিকআপে থাকা দুইজন নেমে কচুরিপানায় ভর্তি একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। অপর দুইজন পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর রানীনগর থানা পুলিশ, সিংড়া থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় জনসাধারণ যৌথভাবে জলাশয়টি ঘিরে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ প্রায় সাত ঘণ্টা অভিযান শেষে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুর দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে হাবিবুর রহমান (৪২), পিতা- কুদরত আলী, সাং- আতারামপুর, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ এবং ফেরদৌস (২৬), পিতা- মোস্তাক, সাং- মইপুর গোপালপুর, থানা- পাঁচবিবি, জেলা- জয়পুরহাটকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় রানীনগর থানার অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রানীনগর থানায়ও আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 












