সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসন, রোববার থেকে জরিমানা

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরের বাজার জিরো পয়েন্টে যানজট নিরসনে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত স্ট্যান্ড রেখে সড়কের যেখানে-সেখানে অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কয়েক দফা সচেতনতা ও মাইকিংয়ের পরও নির্দেশনা না মানায় আগামী রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন নির্ধারিত স্থানে রাখার নির্দেশনা দিয়ে বড় চারটি ও ছোট আটটি মোট ১২টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের উদ্যোগের পরও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বদলায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও সাইনবোর্ড থাকার পরও অনেক অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি চালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোই জিরো পয়েন্টের যানজটের অন্যতম কারণ। নির্ধারিত স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা গেলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গঙ্গাচড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নওফেল বলেন, “জিরো পয়েন্টের যানজটের কারণে প্রতিদিন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রশাসন স্ট্যান্ড নির্মাণ করেছে, চালকদের সচেতন করতে মাইকিংও করছে। এখন চালকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে।”

অটোরিকশাচালক আসিকুল মিয়া বলেন, “সব চালককে একই নিয়মের মধ্যে এনে নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহারে বাধ্য করা হলে যানজট কমানো সম্ভব। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “জিরো পয়েন্টের যানজট নিরসনে নিয়মিত মাইকিং করে চালকদের নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আগামী রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যানজট নিরসনে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। সবাই নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রাখলে জিরো পয়েন্টে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। তাদের প্রত্যাশা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হলে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে গঙ্গাচড়া বাজার জিরো পয়েন্টে স্বস্তি ফিরবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

সৌদির সোফা কারখানায় আগুন, আত্রাইয়ের ১৩ প্রবাসীর প্রাণহানি 

গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসন, রোববার থেকে জরিমানা

প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরের বাজার জিরো পয়েন্টে যানজট নিরসনে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত স্ট্যান্ড রেখে সড়কের যেখানে-সেখানে অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কয়েক দফা সচেতনতা ও মাইকিংয়ের পরও নির্দেশনা না মানায় আগামী রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন নির্ধারিত স্থানে রাখার নির্দেশনা দিয়ে বড় চারটি ও ছোট আটটি মোট ১২টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের উদ্যোগের পরও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বদলায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও সাইনবোর্ড থাকার পরও অনেক অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি চালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানোই জিরো পয়েন্টের যানজটের অন্যতম কারণ। নির্ধারিত স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা গেলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গঙ্গাচড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নওফেল বলেন, “জিরো পয়েন্টের যানজটের কারণে প্রতিদিন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রশাসন স্ট্যান্ড নির্মাণ করেছে, চালকদের সচেতন করতে মাইকিংও করছে। এখন চালকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে।”

অটোরিকশাচালক আসিকুল মিয়া বলেন, “সব চালককে একই নিয়মের মধ্যে এনে নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহারে বাধ্য করা হলে যানজট কমানো সম্ভব। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “জিরো পয়েন্টের যানজট নিরসনে নিয়মিত মাইকিং করে চালকদের নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আগামী রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যানজট নিরসনে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। সবাই নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রাখলে জিরো পয়েন্টে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। তাদের প্রত্যাশা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্ধারিত স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হলে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে গঙ্গাচড়া বাজার জিরো পয়েন্টে স্বস্তি ফিরবে।