
নওগাঁর আত্রাইয়ে তালাকের পর একই যুবকের সঙ্গে মেয়েকে পুনরায় বিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে। জরিমানার টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে না পারলে দ্বিগুণ টাকা আদায় এবং পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
পরে অন্যের কাছ থেকে ধার করে রাতেই ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মেয়ের মা।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝনঝনিয়া গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের এক যুবকের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে তালাক হয়। এরপর গত শনিবার (১ আগস্ট) পারিবারিকভাবে ওই মেয়ের সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত সেই যুবকেরই পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয়বার বিয়ের বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরকে না জানানোয় তারা ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে মেয়ের পরিবারকে ডেকে গ্রাম্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে আফাজের সভাপতিত্বে শিপন, রাসেল, আনোয়ার, জিল্লু, সাত্তার, রফিকুলসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মেয়ের মা মমতা আক্তার বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে ওই ছেলের আগে বিয়ে হয়েছিল। পরে তাদের তালাক হয়ে যায়। পারিবারিকভাবে আমরা আবার তাদের বিয়ে দিই। এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে গ্রামের লোকজন আমাদের ডেকে সালিশে বসায়। সেখানে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই টাকা রাতের মধ্যেই দিতে বলা হয়। টাকা দিতে না পারলে দ্বিগুণ টাকা দিতে হবে এবং আমাদের পরিবারকে সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে অন্যের কাছ থেকে ধার করে রাতেই ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।
গ্রাম্য সালিশের সভাপতি আফাজ বলেন, গ্রামের সবাই উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মতিতেই সালিশ করা হয়েছে এবং ওই পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গ্রাম্য সালিশে এভাবে জরিমানা করার আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সমাজের বিষয়। গ্রামের সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সালিশে উপস্থিত আনোয়ার বলেন, বৈঠকে ছেলে পক্ষের কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। মেয়ে পক্ষের দোষ পাওয়ায় সমাজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা যুব উন্নয়ন ফান্ডে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে শিপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আপনি আমাদের গ্রামে আসেন, সবার সামনে বিষয়টি খুলে বলব।
এ বিষয়ে সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মামুনুর রশিদ বলেন, গ্রাম্য সালিশের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাকে কেউ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। ইউনিয়নের কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমাকে জানানো উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রামে এ ধরনের গ্রাম্য সালিশ করে জরিমানা করার সুযোগ নেই। কোনো বিষয়ে বিরোধ হলে আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















