বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১মরদেহ পাবার অপেক্ষা স্বজনদের

প্রতি পরিবারে ২০হাজার টাকা প্রশাসনের সহায়তা প্রদান

সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের সোফা কারখানায় আগুনে নওগাঁর আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১পরিবার মরদেহ পাবার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। কবে নাগাদ আসবে তাদের সন্তানদের মরদেহ সেই অপেক্ষার সময় যেনো শেষ হচ্ছেনা। রোববার সন্ধার পর থেকে সন্তান হারানোর বেদনায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন,নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন,আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ৮বছর আগে মিনহাজকে ধার-দেনা করে পাঠালেও সড়ক দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায়। মাত্র কিছু দিন হলো আবারো কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে সন্তান চলে গেল। সন্তান মারা যাবার খবর পাবার পর থেকে চোখে আর ঘুম নেই বাবা। কখন সন্তানের মরদেহ আসবে। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে মনটাকে আর স্থির করতে পারছিনা।

গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন ও সুমনের বাবা গোফ্ফার প্রামানিক আকুতি করে বলেন,আপনারা যত দ্রুত পারেন আমাদের সন্তানদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। সন্তানদের মুখ দেখতে অপেক্ষার সময় যেনো আর কিছুতেই কাটাতে পারছিনা। একই গ্রামের কলি আহম্মেদের মামা নুরউদ্দীন বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পরছেন। তিনি কান্নারত অবস্থায় বলছেন,আগুনের সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলোও পুরে ছাই হয়ে গেলো। ডুবাই গ্রামের সুমনের ভাই সজিব জানান,বাড়ীতে এসে ভাইয়ের বিয়ে করার কথা ছিল। অথচ এখন ফিরে আসবে কফিনে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিহতদের স্বজনদের তথ্য মতে, সৌদি আরবের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় কাজ করতেন। সারা রাত কাজ করে দিনের বেলায় ঘুমিয়ে যেতেন তারা। রোববার সেখানকার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটা নাগাদ তারা যখন ঘুমাচ্ছিলেন সে সময় তাদের কারখানায় আগুন ধরে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পরলে কেউ বের হতে পারেনি। ফলে ১৬জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের গোফ্ফার প্রামানিকের দুই ছেলে মোহন ও সুমন,একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল ও বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দীন,ডুবাই গ্রামের বাদল তালুকদারের ছেলে সোহেল রানা ওরফে সুমন,একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ,মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামনিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক,পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ সরদারের ছেলে জলিল সরদার,মাধবপুর গ্রামের মুজনু সরদারের ছেলে মজিদুল সরদার সজিব,উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে ফরিদ উদ্দীন এবং সাধনগর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে সাগর আলী।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের প্রতি পরিবারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকালে ২০হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের অধীনে প্রতি পরিবারকে আরো ৩লাখ টাকা করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করছি। তবে মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো কিছু দিন সময় লাগবে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যেনো দ্রুতই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌছে দেয়া যায়।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর চোখের জলে বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী

আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১মরদেহ পাবার অপেক্ষা স্বজনদের

প্রতি পরিবারে ২০হাজার টাকা প্রশাসনের সহায়তা প্রদান

প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের সোফা কারখানায় আগুনে নওগাঁর আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১পরিবার মরদেহ পাবার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। কবে নাগাদ আসবে তাদের সন্তানদের মরদেহ সেই অপেক্ষার সময় যেনো শেষ হচ্ছেনা। রোববার সন্ধার পর থেকে সন্তান হারানোর বেদনায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন,নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন,আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ৮বছর আগে মিনহাজকে ধার-দেনা করে পাঠালেও সড়ক দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায়। মাত্র কিছু দিন হলো আবারো কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে সন্তান চলে গেল। সন্তান মারা যাবার খবর পাবার পর থেকে চোখে আর ঘুম নেই বাবা। কখন সন্তানের মরদেহ আসবে। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে মনটাকে আর স্থির করতে পারছিনা।

গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন ও সুমনের বাবা গোফ্ফার প্রামানিক আকুতি করে বলেন,আপনারা যত দ্রুত পারেন আমাদের সন্তানদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। সন্তানদের মুখ দেখতে অপেক্ষার সময় যেনো আর কিছুতেই কাটাতে পারছিনা। একই গ্রামের কলি আহম্মেদের মামা নুরউদ্দীন বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পরছেন। তিনি কান্নারত অবস্থায় বলছেন,আগুনের সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলোও পুরে ছাই হয়ে গেলো। ডুবাই গ্রামের সুমনের ভাই সজিব জানান,বাড়ীতে এসে ভাইয়ের বিয়ে করার কথা ছিল। অথচ এখন ফিরে আসবে কফিনে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিহতদের স্বজনদের তথ্য মতে, সৌদি আরবের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় কাজ করতেন। সারা রাত কাজ করে দিনের বেলায় ঘুমিয়ে যেতেন তারা। রোববার সেখানকার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটা নাগাদ তারা যখন ঘুমাচ্ছিলেন সে সময় তাদের কারখানায় আগুন ধরে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পরলে কেউ বের হতে পারেনি। ফলে ১৬জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের গোফ্ফার প্রামানিকের দুই ছেলে মোহন ও সুমন,একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল ও বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দীন,ডুবাই গ্রামের বাদল তালুকদারের ছেলে সোহেল রানা ওরফে সুমন,একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ,মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামনিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক,পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ সরদারের ছেলে জলিল সরদার,মাধবপুর গ্রামের মুজনু সরদারের ছেলে মজিদুল সরদার সজিব,উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে ফরিদ উদ্দীন এবং সাধনগর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে সাগর আলী।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের প্রতি পরিবারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকালে ২০হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের অধীনে প্রতি পরিবারকে আরো ৩লাখ টাকা করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করছি। তবে মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো কিছু দিন সময় লাগবে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যেনো দ্রুতই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌছে দেয়া যায়।