শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে স্বামী হত্যা স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

  • ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১১:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়ার জেরে স্বামী নুরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পারিবারিক আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় স্ত্রী মুন্নি বেগম আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলাম সালথা বাজারে মুদি ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুব মোল্লার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে তারা পালিয়ে যান। পরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে মুন্নি বাড়িতে ফিরে এলে নুরুল ইসলাম তাকে পুনরায় গ্রহণ করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে আবারও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে মুন্নি কৌশলে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান। পরে পরকীয়া প্রেমিক মাহাবুবের পরামর্শ ও সহায়তায় নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নি ও মাহাবুবের একটি যৌথ ছবি উদ্ধার করে। ওই সূত্র ধরে মুন্নি বেগমকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বিকু বলেন, দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত মুন্নি বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি মাহাবুব মোল্লা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

মহেশপুরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

ফরিদপুরে স্বামী হত্যা স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ১১:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়ার জেরে স্বামী নুরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পারিবারিক আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় স্ত্রী মুন্নি বেগম আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলাম সালথা বাজারে মুদি ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুব মোল্লার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে তারা পালিয়ে যান। পরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে মুন্নি বাড়িতে ফিরে এলে নুরুল ইসলাম তাকে পুনরায় গ্রহণ করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে আবারও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে মুন্নি কৌশলে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান। পরে পরকীয়া প্রেমিক মাহাবুবের পরামর্শ ও সহায়তায় নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নি ও মাহাবুবের একটি যৌথ ছবি উদ্ধার করে। ওই সূত্র ধরে মুন্নি বেগমকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বিকু বলেন, দীর্ঘ শুনানি এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত মুন্নি বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি মাহাবুব মোল্লা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।