শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সময় ও অতিরিক্ত খরচ কমাতে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার নিয়োগের দাবি

সার কিনতে নদী পাড়ি, ভোগান্তিতে ১২ গ্রামের কৃষক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের নদীর দক্ষিণ তীরে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে গণস্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার বিকেলে তারা এ আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের প্রায় মাঝ বরাবর দিয়ে আত্রাই-গুড় নদী বয়ে গেছে। নদীর দক্ষিণ তীরে ইউনিয়নের হরিপুর, সুদরানা, বিশা, বৈঠাখালী, ডুবাই, উদয়পুর, পারমোহনঘোষ, থলওলমাসহ প্রায় ১২টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের কৃষকদের জন্য বর্তমানে একজন বিসিআইসি এবং আরও দুজন বিএডিসি সার ডিলার নদীর উত্তর তীরে সমসপাড়া বাজারে বসেন।

ফলে নদীর দক্ষিণ তীরের এসব গ্রামের কৃষকদের সার সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন নদী পার হয়ে সমসপাড়া বাজারে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের মূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নদী পারাপার ও সার পরিবহনে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০-৭০ টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়ছে।

সময় ও অতিরিক্ত খরচের অপচয় কমাতে নদীর দক্ষিণ তীরে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে এলাকার কৃষকরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। পরে বুধবার বিকেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সার নিতে গেলে নদী পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় অর্ধেক দিন গড়িয়ে যায়। এতে আমাদের সংসারের কাজকর্মেও চরম ক্ষতি হয়।

বৈঠাখালী গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ১০ কেজি সার লাগলেও নদী পার হয়ে যেতে হয়। এতে খরচ ও সময় দুটোরই অপচয় হয়।

ডুবাই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর ওপার থেকে সার আনতে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০-৭০ টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ে যায়। ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার থাকলে খুব অল্প সময়ে ভ্যান বা অন্য কোনো পরিবহনে সহজেই সার নিতে পারব। এতে খরচও বাঁচবে। তাই কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা এখানে একজন সার ডিলার নিয়োগ দেবেন এমনটাই আশা করছি।

আত্রাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশা ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য ১২ জন আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে ওই এলাকার কৃষকরা একটি আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

সময় ও অতিরিক্ত খরচ কমাতে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার নিয়োগের দাবি

সার কিনতে নদী পাড়ি, ভোগান্তিতে ১২ গ্রামের কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের নদীর দক্ষিণ তীরে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে গণস্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার বিকেলে তারা এ আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের প্রায় মাঝ বরাবর দিয়ে আত্রাই-গুড় নদী বয়ে গেছে। নদীর দক্ষিণ তীরে ইউনিয়নের হরিপুর, সুদরানা, বিশা, বৈঠাখালী, ডুবাই, উদয়পুর, পারমোহনঘোষ, থলওলমাসহ প্রায় ১২টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের কৃষকদের জন্য বর্তমানে একজন বিসিআইসি এবং আরও দুজন বিএডিসি সার ডিলার নদীর উত্তর তীরে সমসপাড়া বাজারে বসেন।

ফলে নদীর দক্ষিণ তীরের এসব গ্রামের কৃষকদের সার সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন নদী পার হয়ে সমসপাড়া বাজারে যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের মূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নদী পারাপার ও সার পরিবহনে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০-৭০ টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে কৃষকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়ছে।

সময় ও অতিরিক্ত খরচের অপচয় কমাতে নদীর দক্ষিণ তীরে ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে এলাকার কৃষকরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। পরে বুধবার বিকেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সার নিতে গেলে নদী পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় অর্ধেক দিন গড়িয়ে যায়। এতে আমাদের সংসারের কাজকর্মেও চরম ক্ষতি হয়।

বৈঠাখালী গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ১০ কেজি সার লাগলেও নদী পার হয়ে যেতে হয়। এতে খরচ ও সময় দুটোরই অপচয় হয়।

ডুবাই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর ওপার থেকে সার আনতে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬০-৭০ টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ে যায়। ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে সার ডিলার থাকলে খুব অল্প সময়ে ভ্যান বা অন্য কোনো পরিবহনে সহজেই সার নিতে পারব। এতে খরচও বাঁচবে। তাই কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা এখানে একজন সার ডিলার নিয়োগ দেবেন এমনটাই আশা করছি।

আত্রাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশা ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য ১২ জন আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজারে একজন সার ডিলার নিয়োগের দাবিতে ওই এলাকার কৃষকরা একটি আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।