শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক, থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি

রাজশাহীতে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে একটি ফ্ল্যাট থেকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

আটক মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ায় তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

শুক্রবার সকালে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটের সামনে এসে নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, ভেতরে তার স্বামী মাহবুব আলম রয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি।

এরপর আন্নি আক্তার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনা হয়।

জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুব আলমের দাবি, তিনি আন্নি আক্তারকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন।

আন্নি আক্তারের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন। একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আন্নি আক্তার বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন পেয়েছিলেন। সে সময় সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি।

তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম বলেন, তিনি আন্নি আক্তারকে তালাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চারদিন আগে আন্নি আক্তারকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে সানজিদা মৌয়ের সঙ্গে তার বিয়ের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।

চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহী যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

রাজস্ব আদায়ে ব্যস্ত রেল, যাত্রীসেবায় নেই নজর বেহাল আত্রাই স্টেশন

ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক, থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি

প্রকাশের সময় : ০৭:২৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীতে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে একটি ফ্ল্যাট থেকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

আটক মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ায় তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

শুক্রবার সকালে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটের সামনে এসে নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন আন্নি আক্তার। তার দাবি, ভেতরে তার স্বামী মাহবুব আলম রয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি।

এরপর আন্নি আক্তার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে আনা হয়।

জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার পর মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা তার স্ত্রী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুব আলমের দাবি, তিনি আন্নি আক্তারকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন।

আন্নি আক্তারের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন। একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আন্নি আক্তার বলেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে দুই দিন পেয়েছিলেন। সে সময় সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি।

তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়নি। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম বলেন, তিনি আন্নি আক্তারকে তালাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চারদিন আগে আন্নি আক্তারকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে সানজিদা মৌয়ের সঙ্গে তার বিয়ের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।

চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, তিনি কিছুক্ষণ আগে ঘটনাটি জেনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহী যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।