
নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্ল্যাটফরমের যাত্রী ছাউনির টিন ঝাঁঝরা হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এ ছাড়া প্ল্যাটফরমের বিভিন্ন স্থানে সোলিংয়ের ইট উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাছের ঝুড়ি থেকে নির্গত পানি এসব গর্তে জমে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। স্টেশনটি নিচু হওয়ায় ট্রেনে ওঠানামার সময়ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মানসম্পন্ন রেলওয়ে স্টেশন আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন। ঢাকা-চিলাহাটি, চিলাহাটি-খুলনা, চিলাহাটি-রাজশাহী এবং ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ বিভিন্ন মেইল ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে এ স্টেশনে। ফলে প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়রা জানান, এসব ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করলেও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে প্ল্যাটফরমের যাত্রী ছাউনির টিন দীর্ঘদিন ধরে ঝাঁঝরা হয়ে পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় পুরো জায়গা। এতে বৃষ্টির সময় ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এ ছাড়া প্ল্যাটফরমের বিভিন্ন স্থানে সোলিংয়ের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আত্রাই রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে পাঠানো হয়। ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফরমে রাখা মাছের ঝুড়ি থেকে নির্গত পানি এসব গর্তে জমে থাকে। এতে প্ল্যাটফরমে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও সেই তুলনায় প্ল্যাটফরমের সংস্কার ও যাত্রীসেবার উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই প্ল্যাটফরমে চলাচল ও অবস্থান করা যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
শুধু তাই নয়, ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার জন্যও প্ল্যাটফরমজুড়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে দীর্ঘ সময় ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ট্রেনে প্রতিদিন যাতায়াত করা এক ব্যক্তি বলেন, আমরা বাইরে থেকে এসে এই উপজেলায় চাকরি করি। আমার বৃদ্ধ মা রয়েছেন। আমাদের মাসে তিন থেকে চারবার ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। আত্রাই রেলস্টেশনটি অনেক নিচু হওয়ায় ট্রেন থেকে নিচে নামতে যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়।
আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ট্রেনযাত্রী বলেন, এই স্টেশনে কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে খোলামেলা। সামান্য অন্ধকার হলেই মনে ভয় জাগে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। কর্তৃপক্ষ কেন এ বিষয়ে নজর দেয় না, আসলে এটা আমাদের জানা নেই। স্টেশনটি আরও উন্নত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আহসানগঞ্জ রেলস্টেশনে কর্মরত বুকিং সহকারী গ্রেড-১ সুব্রত কুমার দাস বলেন, আমরা রেলস্টেশনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবগত করে আসছি। এর বাইরে তো আমরা আর কিছু করতে পারি না। তবে শোনা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই এই রেলস্টেশনের সমস্যার সমাধান হবে।
স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, আত্রাই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফরম সংস্কার, যাত্রী ছাউনির টিন পরিবর্তন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ রেলস্টেশনের পরিবেশ ও যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















