রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তর স্থানান্তরের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে দলিল লেখকদের সমাবেশ

রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্র ঘোষিত ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল লেখকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সম্পত্তি নিবন্ধন কার্যক্রমে সেবামূলক ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

বক্তারা জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার বিষয়টি সামনে আসে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্ট্রেশন দপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতারা বলেন, ২০০৭ সালেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে আন্দোলন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রায় দুই লাখের বেশি দলিল লেখক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলাও করা হয়েছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ জনগণকে নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল জনস্বার্থের কথা বলে নিজেদের স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

নেতারা জানান, এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে এবং এর আগে ১২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার মাধ্যমেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, আধুনিকায়নের নামে প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখক যাতে পেশাচ্যুত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী, শেফুল ইসলাম, নেজামুল ইসলাম, এমদাদুল হুদা, শহিদ সরোয়ার চৌধুরী, আব্দুল্লা মিয়া, কাজি আনোয়ার মিয়া, আব্দুল হান্নান, মো. আলমগীর, বশির আহমদ, আব্দুল মতিন, সুরুজ্জামান, সাজ্জাদুল ইসলাম শায়েস্তা ও নজরুল ইসলামসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন, সন্তানের মুক্ত জীবনের আকুতি মায়ের

রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তর স্থানান্তরের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে দলিল লেখকদের সমাবেশ

প্রকাশের সময় : ১১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্র ঘোষিত ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল লেখকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সম্পত্তি নিবন্ধন কার্যক্রমে সেবামূলক ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

বক্তারা জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার বিষয়টি সামনে আসে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্ট্রেশন দপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতারা বলেন, ২০০৭ সালেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে আন্দোলন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রায় দুই লাখের বেশি দলিল লেখক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলাও করা হয়েছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ জনগণকে নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল জনস্বার্থের কথা বলে নিজেদের স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

নেতারা জানান, এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে এবং এর আগে ১২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার মাধ্যমেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, আধুনিকায়নের নামে প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখক যাতে পেশাচ্যুত হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী, শেফুল ইসলাম, নেজামুল ইসলাম, এমদাদুল হুদা, শহিদ সরোয়ার চৌধুরী, আব্দুল্লা মিয়া, কাজি আনোয়ার মিয়া, আব্দুল হান্নান, মো. আলমগীর, বশির আহমদ, আব্দুল মতিন, সুরুজ্জামান, সাজ্জাদুল ইসলাম শায়েস্তা ও নজরুল ইসলামসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।