রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে যোগদানে গিয়ে অধ্যক্ষের ওপর হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েল। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের পর তদন্ত এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার কারণ দেখিয়ে প্রায় দুই বছর আগে অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পরে মাসুদ রানা জুয়েল উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ পান। ওই আদেশের পর এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার তিনি কলেজে যোগদান করতে আসেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, মাসুদ রানা জুয়েল অফিস কক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক সেখানে এসে তাঁকে অফিস কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত মাসুদ রানা জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হামলাকারীরা কারা ছিলেন, তা তিনি জানাতে পারেননি।

অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কয়েকজন লোক আমার ভাই ও আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মারধরে মাসুদ রানা জুয়েলের এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

রাণীনগরে যোগদানে গিয়ে অধ্যক্ষের ওপর হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন

রাণীনগরে যোগদানে গিয়ে অধ্যক্ষের ওপর হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন

প্রকাশের সময় : ০৬:১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েল। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের পর তদন্ত এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার কারণ দেখিয়ে প্রায় দুই বছর আগে অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পরে মাসুদ রানা জুয়েল উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ পান। ওই আদেশের পর এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার তিনি কলেজে যোগদান করতে আসেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, মাসুদ রানা জুয়েল অফিস কক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক সেখানে এসে তাঁকে অফিস কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত মাসুদ রানা জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হামলাকারীরা কারা ছিলেন, তা তিনি জানাতে পারেননি।

অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েলের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কয়েকজন লোক আমার ভাই ও আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। পরে তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মারধরে মাসুদ রানা জুয়েলের এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।