
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের অদূরে রামচন্দ্রপুরপাড়া এলাকার একটি সুইপার কলোনিকে ঘিরে মাদকদ্রব্য কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের গেটের পূর্ব পাশে অবস্থিত ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা হয়ে আসছে। এতে এলাকার পরিবেশ এবং পাশের উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই কলোনিতে আগে দেশীয় মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। মাদককে কেন্দ্র করে সেখানে মাঝেমধ্যে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে বলে তাঁদের দাবি। জায়গাটি উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদের পাশে হওয়ায় মুসল্লিদের চলাচল ও ধর্মীয় পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের কয়েকজন অভিযোগ করেন, সুইপার কলোনির হৃদয় বাঁশফোঁড়, শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুল কাদের বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের কাছেই দিন-রাত মাদক লেনদেন চলছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। মাদক নিয়ে সেখানে প্রায়ই গন্ডগোল হয়। বিষয়টি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুল মারুফ শিমুল বলেন, “প্রশাসনের সামনেই এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। মাদকের কারণে এলাকার তরুণদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
আরেক বাসিন্দা তৌহিদুজ্জামান পলাশ বলেন, “সুইপার কলোনিকে ঘিরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের এত কাছে এমন অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।”
তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হৃদয় বাঁশফোঁড়। তিনি বলেন, “আমাদের কলোনিতে প্রায় ১৬টি বাড়ি আছে। তাঁদের অনেকেই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে আমি জানি। আমি জাতিগতভাবে দেশীয় মদ পান করি ও বিক্রি করি। তবে অন্য কোনো মাদকের সঙ্গে আমি জড়িত নই।”
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “ওই কলোনির বাসিন্দারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হওয়ায় নিজেদের ব্যবহারের জন্য দেশীয় মদ তৈরি ও পান করেন। তাঁদের অনেকের দেশীয় মদের লাইসেন্সও রয়েছে। তবে তাঁরা নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে মদ বিক্রি করেন কি না, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই।”
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদুজ্জামান হিমু বলেন, “ওই এলাকায় মাদক বিক্রির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 


















