
গ্রাহকের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সবাই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনালী ব্যাংকের নাটোরের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন এইচএম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, মনিরুজ্জামান, লিটন কুমার ও বিপুল পাল।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে লিটন কুমার ও বিপুল পালের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিটন কুমার গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিপুল পাল প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সম্প্রতি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারা নাটোর থেকে বদলি হয়ে সর্বশেষ নওগাঁ জেলায় কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, এইচএম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা নাটোরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, নাটোরে কর্মরত থাকার সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের নাটোরের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা বলেন, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে প্রধান কার্যালয় থেকে পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাটোর প্রতিনিধি 


















