সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভাব-সংগ্রাম পেরিয়ে সহকারী জজ, ইতিহাস গড়লেন তুরি সম্প্রদায়ের কাজল

চরম দারিদ্র্য, বাবার দিনমজুরি, এনজিওর কিস্তির চাপ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসব কিছুই থামাতে পারেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাইপুর গ্রামের কাজল পাঁড়েকে। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো টিউশনি করেছেন, আবার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ধরে রেখেছেন বিচার বিভাগে যাওয়ার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম হয়ে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

কাজলের এই সাফল্যে শুধু তার পরিবার নয়, আনন্দে ভাসছে পুরো মাধাইপুর গ্রাম। প্রায় ২২ বছর আগে গড়ে ওঠা এই গ্রামে এতদিন কোনো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গ্রামের প্রথম সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিচারকের দায়িত্বে যাওয়ার পথে কাজল। তার বাড়ি ফেরার পর ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন গ্রামবাসী।

কাজল পাঁড়ে গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর গ্রামের ‘তুরি’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ির একমাত্র ছেলে। অভাবের কারণে তার তিন বোনের পড়াশোনা প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই বন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়সেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়। আর কাজলের নিজের শৈশবও কেটেছে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে। এমন দিনও গেছে, ঘরে খাবার না থাকায় না খেয়েই তাকে স্কুলে যেতে হয়েছে।

মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় কাজলের শিক্ষাজীবন। পরে মিশন স্কুল, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার বাধার মুখে পড়লেও দ্বিতীয়বার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিচার বিভাগে কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কাজল। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। একদিকে পরিবারের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় সবকিছু সামলাতে ক্যাম্পাসে টিউশনি করতেন তিনি। নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারের ওপর চাপ কমাতেও চেষ্টা করেছেন।

ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বাবা নরেশ পাঁড়েকেও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এনজিওর কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি গরু বিক্রি করেছেন। এমনকি মানুষের কাছে সাহায্য না চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে গিয়ে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই উপার্জনেই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে গেছেন।

দীর্ঘ আট বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। বুধবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রথমে বিজেএস পরীক্ষায় নিজের ফল জানতে পারেন কাজল। পরে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখে নিশ্চিত হন। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান অর্জন করে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ পান তিনি।

রাজশাহী থেকে মাধাইপুরে ফেরার পর কাজলকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। গ্রামের মানুষ ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অর্জনকে নিজেদের সাফল্য হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

কাজল পাঁড়ে বলেন, বিচার বিভাগে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের এই সময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বারবার মনে পড়ছে। পড়াশোনার পেছনে পরিবারের ত্যাগ, নিজের পরিশ্রম এবং নানা হতাশার মধ্যেও লক্ষ্য ধরে রাখার বিষয়গুলো তার মনে পড়ছে।

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা নরেশ পাঁড়ে ও মা পঞ্চমী জেড়ি। দীর্ঘদিনের কষ্ট সন্তানের সাফল্যের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সার্থক হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। ছেলে জজ হওয়ার খবর শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা পঞ্চমী জেড়ি। তার ভাষ্য, চরম কষ্টের মধ্যেও ছেলে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

বাবা নরেশ পাঁড়ের প্রত্যাশা, তার ছেলে ভবিষ্যতে শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্যও কাজ করবেন।

গ্রামের প্রবীণ জারাধন পাণ্ডে বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কেউ এর আগে এমন পর্যায়ে যেতে পারেননি। কাজলের সাফল্যের খবর শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনিও।

মাধাইপুর গ্রামের প্রধান নিরঞ্জন তিরকি বলেন, কাজলের এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এগিয়ে যাওয়া এলাকার শিশু-কিশোরদের পড়াশোনায় আগ্রহী করবে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।

পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজল সহকারী জজ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার এই অর্জন এলাকার অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতোর দাবি, তুরি সম্প্রদায়ের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যক্তি কাজল। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে বিচার বিভাগে সুপারিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

কাজলের সাফল্যে আনন্দিত তার স্কুলের শিক্ষকরাও। মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে কাজল পাঁড়ে আজ পুরো মাধাইপুর গ্রামের গর্ব। তার সাফল্য দেখিয়েছে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নওগাঁয় শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

অভাব-সংগ্রাম পেরিয়ে সহকারী জজ, ইতিহাস গড়লেন তুরি সম্প্রদায়ের কাজল

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চরম দারিদ্র্য, বাবার দিনমজুরি, এনজিওর কিস্তির চাপ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এসব কিছুই থামাতে পারেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাইপুর গ্রামের কাজল পাঁড়েকে। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো টিউশনি করেছেন, আবার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ধরে রেখেছেন বিচার বিভাগে যাওয়ার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম হয়ে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

কাজলের এই সাফল্যে শুধু তার পরিবার নয়, আনন্দে ভাসছে পুরো মাধাইপুর গ্রাম। প্রায় ২২ বছর আগে গড়ে ওঠা এই গ্রামে এতদিন কোনো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গ্রামের প্রথম সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিচারকের দায়িত্বে যাওয়ার পথে কাজল। তার বাড়ি ফেরার পর ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন গ্রামবাসী।

কাজল পাঁড়ে গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর গ্রামের ‘তুরি’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ির একমাত্র ছেলে। অভাবের কারণে তার তিন বোনের পড়াশোনা প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই বন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়সেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়। আর কাজলের নিজের শৈশবও কেটেছে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে। এমন দিনও গেছে, ঘরে খাবার না থাকায় না খেয়েই তাকে স্কুলে যেতে হয়েছে।

মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় কাজলের শিক্ষাজীবন। পরে মিশন স্কুল, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার বাধার মুখে পড়লেও দ্বিতীয়বার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিচার বিভাগে কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কাজল। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। একদিকে পরিবারের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় সবকিছু সামলাতে ক্যাম্পাসে টিউশনি করতেন তিনি। নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারের ওপর চাপ কমাতেও চেষ্টা করেছেন।

ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বাবা নরেশ পাঁড়েকেও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এনজিওর কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি গরু বিক্রি করেছেন। এমনকি মানুষের কাছে সাহায্য না চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে গিয়ে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই উপার্জনেই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে গেছেন।

দীর্ঘ আট বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। বুধবার সন্ধ্যায় এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রথমে বিজেএস পরীক্ষায় নিজের ফল জানতে পারেন কাজল। পরে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখে নিশ্চিত হন। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান অর্জন করে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ পান তিনি।

রাজশাহী থেকে মাধাইপুরে ফেরার পর কাজলকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। গ্রামের মানুষ ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অর্জনকে নিজেদের সাফল্য হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

কাজল পাঁড়ে বলেন, বিচার বিভাগে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের এই সময়ে দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোর কথা বারবার মনে পড়ছে। পড়াশোনার পেছনে পরিবারের ত্যাগ, নিজের পরিশ্রম এবং নানা হতাশার মধ্যেও লক্ষ্য ধরে রাখার বিষয়গুলো তার মনে পড়ছে।

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা নরেশ পাঁড়ে ও মা পঞ্চমী জেড়ি। দীর্ঘদিনের কষ্ট সন্তানের সাফল্যের মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সার্থক হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। ছেলে জজ হওয়ার খবর শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা পঞ্চমী জেড়ি। তার ভাষ্য, চরম কষ্টের মধ্যেও ছেলে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

বাবা নরেশ পাঁড়ের প্রত্যাশা, তার ছেলে ভবিষ্যতে শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্যও কাজ করবেন।

গ্রামের প্রবীণ জারাধন পাণ্ডে বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কেউ এর আগে এমন পর্যায়ে যেতে পারেননি। কাজলের সাফল্যের খবর শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনিও।

মাধাইপুর গ্রামের প্রধান নিরঞ্জন তিরকি বলেন, কাজলের এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এগিয়ে যাওয়া এলাকার শিশু-কিশোরদের পড়াশোনায় আগ্রহী করবে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।

পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজল সহকারী জজ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার এই অর্জন এলাকার অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতোর দাবি, তুরি সম্প্রদায়ের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যক্তি কাজল। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে বিচার বিভাগে সুপারিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

কাজলের সাফল্যে আনন্দিত তার স্কুলের শিক্ষকরাও। মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে কাজল পাঁড়ে আজ পুরো মাধাইপুর গ্রামের গর্ব। তার সাফল্য দেখিয়েছে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।