রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামইরহাটে ঐতিহাসিক ঠাকুর কাছারিবাড়িতে ৬০০ বৃক্ষরোপণ

নওগাঁর ধামইরহাটে ঐতিহাসিক মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর ঠাকুর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ রাখতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের নেতৃত্বে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, ধামইরহাটের এই ঠাকুর কাছারিবাড়ি জমিদারি আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের সহধর্মিণী ছিলেন মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবী। ধামইরহাট এলাকায় তাঁদের বিস্তৃত জমিদারি ছিল। প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়সহ জমিদারির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এই কাছারিবাড়ি।

লাল ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলীতে গড়ে ওঠা স্থাপনাটিতে একসময় ছিল দরবার হল, খাজনা আদায়ের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনা। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও স্থাপনাটি ওই সময়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে আসছে।

তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কাছারিবাড়িটির বিভিন্ন অংশ বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে জন্মেছে বটগাছসহ নানা ধরনের পরজীবী উদ্ভিদ। এতে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন।

এ অবস্থায় কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংস্কার ও সংরক্ষণেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাছারিবাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে স্থাপনাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে ধামইরহাটের এই ঐতিহাসিক স্থানটি ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য একটি নান্দনিক ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

ধামইরহাটে ঐতিহাসিক ঠাকুর কাছারিবাড়িতে ৬০০ বৃক্ষরোপণ

প্রকাশের সময় : ১১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে ঐতিহাসিক মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবীর ঠাকুর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ রাখতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের নেতৃত্বে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, ধামইরহাটের এই ঠাকুর কাছারিবাড়ি জমিদারি আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের সহধর্মিণী ছিলেন মহারানী অক্ষয়কুমারী দেবী। ধামইরহাট এলাকায় তাঁদের বিস্তৃত জমিদারি ছিল। প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়সহ জমিদারির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এই কাছারিবাড়ি।

লাল ইট ও চুন-সুরকির নির্মাণশৈলীতে গড়ে ওঠা স্থাপনাটিতে একসময় ছিল দরবার হল, খাজনা আদায়ের কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনা। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও স্থাপনাটি ওই সময়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে আসছে।

তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কাছারিবাড়িটির বিভিন্ন অংশ বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে জন্মেছে বটগাছসহ নানা ধরনের পরজীবী উদ্ভিদ। এতে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাচীন স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন।

এ অবস্থায় কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রায় ৬০০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংস্কার ও সংরক্ষণেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে কাছারিবাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে স্থাপনাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে ধামইরহাটের এই ঐতিহাসিক স্থানটি ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য একটি নান্দনিক ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।