
বিশ্ব অর্থনীতি কি আবারও বড় ধরনের আর্থিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে এ প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ইতিবাচক বক্তব্য থাকলেও উচ্চ সরকারি ঋণ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং পুঁজিবাজারে এআই-নির্ভর বিনিয়োগের দ্রুত উত্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন বন্ড বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়ে যাওয়ায় ঋণের খরচও বাড়ছে। একই সঙ্গে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। আইএমএফের হিসাবে দেশটির ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১২৫ শতাংশের বেশি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতিতেও ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০০ শতাংশের বেশি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যেরও তা ১০০ শতাংশের ওপরে। ফলে বড় অর্থনীতিগুলোর ঋণের চাপ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস, সার ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ডেভিড রজেনবার্গ সতর্ক করেছেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও উচ্চ সুদের হারের সমন্বয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে তাঁর এই পূর্বাভাস নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে এবং অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।
অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ মার্কিন শেয়ারবাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেও এ বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে এআই-সম্পর্কিত প্রকল্পে মূলধনী ব্যয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেই এর বড় অংশ বিনিয়োগ হচ্ছে।
এআই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে নতুন করে ‘বাবল’ তৈরির আশঙ্কা করছেন কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, প্রত্যাশিত মুনাফার তুলনায় অনেক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য দ্রুত বেড়েছে। তবে এআই খাতের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে উচ্চ সরকারি ঋণ, জ্বালানি ও পণ্যের বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং এআই-নির্ভর পুঁজিবাজার এসব বিষয় বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে এসব ঝুঁকি থাকলেও বিশ্ব অর্থনীতি নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের মন্দা বা শেয়ারবাজার ধসের দিকে যাচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যায় না। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে জ্বালানি বাজার, সুদের হার, বৈশ্বিক সংঘাত এবং বিনিয়োগের গতিপথের ওপর।
আ.আ. ডেস্ক 














