শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিলারের দোকানে কৃষকের দীর্ঘ লাইন, তিন দিনেও সার না পেয়ে ক্ষোভ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। দিনের পর দিন ডিলারের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না চাহিদামতো সার। কেউ রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন, আবার কেউ টানা তিন দিন ঘুরেও এক বস্তা সার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। 

উপজেলার কৃষক আয়নাল হোসেন বলেন, আমরা তিন দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘুরে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত এক বস্তা সারও পাইনি। তাহলে আমরা কীভাবে, কী দিয়ে চাষাবাদ করব।

মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছি না। কখনো বলা হচ্ছে, এই ডিলারের কাছে সার নেই, অন্য ডিলারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু সেখানেও লাইনে দাঁড়িয়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সময়মতো সার দিতে না পারলে আবাদে দেরি হবে এবং ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, আমার জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ছয় বস্তা সার প্রয়োজন। কিন্তু শুধু ইউরিয়া সার পেয়েছি, অন্য কোনো ধরনের সার পাইনি। সার ছাড়া কীভাবে চাষাবাদ করব, এ কারণেই আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে এসেছি, যাতে তিনি সারের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।

উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, ডিলারদের কাছে বেশির ভাগ সময় ইউরিয়া সার পাওয়া গেলেও অন্যান্য ধরনের সার মিলছে না। শুধু ইউরিয়া দিয়ে তো আর চাষাবাদ করা যায় না। ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আত্রাইয়ের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স নাজমুজ্জামানের স্বত্বাধিকারী নাজমুজ্জামান বলেন, আত্রাই উপজেলায় সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ ও সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এ কারণেই সারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, এক ডিলারের কাছে সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে আমাদের কাছে এসেছিলেন। পরে তাঁদের সার নেওয়ার জন্য অন্য ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় সার সংকট নেই। তবে প্রয়োজন আছে বা নেই এমন অনেক কৃষকই সার নিতে আসছেন, যার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা একাধিক সভা করেছি। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। সার সংকটের অভিযোগ নিয়ে আসা কৃষকদের সার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

ডিলারের দোকানে কৃষকের দীর্ঘ লাইন, তিন দিনেও সার না পেয়ে ক্ষোভ

ডিলারের দোকানে কৃষকের দীর্ঘ লাইন, তিন দিনেও সার না পেয়ে ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। দিনের পর দিন ডিলারের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না চাহিদামতো সার। কেউ রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন, আবার কেউ টানা তিন দিন ঘুরেও এক বস্তা সার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। 

উপজেলার কৃষক আয়নাল হোসেন বলেন, আমরা তিন দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘুরে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত এক বস্তা সারও পাইনি। তাহলে আমরা কীভাবে, কী দিয়ে চাষাবাদ করব।

মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছি না। কখনো বলা হচ্ছে, এই ডিলারের কাছে সার নেই, অন্য ডিলারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু সেখানেও লাইনে দাঁড়িয়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সময়মতো সার দিতে না পারলে আবাদে দেরি হবে এবং ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, আমার জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ছয় বস্তা সার প্রয়োজন। কিন্তু শুধু ইউরিয়া সার পেয়েছি, অন্য কোনো ধরনের সার পাইনি। সার ছাড়া কীভাবে চাষাবাদ করব, এ কারণেই আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে এসেছি, যাতে তিনি সারের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।

উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, ডিলারদের কাছে বেশির ভাগ সময় ইউরিয়া সার পাওয়া গেলেও অন্যান্য ধরনের সার মিলছে না। শুধু ইউরিয়া দিয়ে তো আর চাষাবাদ করা যায় না। ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আত্রাইয়ের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স নাজমুজ্জামানের স্বত্বাধিকারী নাজমুজ্জামান বলেন, আত্রাই উপজেলায় সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ ও সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এ কারণেই সারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, এক ডিলারের কাছে সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে আমাদের কাছে এসেছিলেন। পরে তাঁদের সার নেওয়ার জন্য অন্য ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলায় সার সংকট নেই। তবে প্রয়োজন আছে বা নেই এমন অনেক কৃষকই সার নিতে আসছেন, যার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা একাধিক সভা করেছি। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। সার সংকটের অভিযোগ নিয়ে আসা কৃষকদের সার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।