মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের চেয়ে আজ একদিনেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে গেছে। ফলে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তারমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬০০ মিটার। সকালজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করলেও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ।

এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে কুয়াশার প্রভাবে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ভোর থেকে রাস্তায় নামতে খুব কষ্ট হচ্ছে। হাত-পা অবশ হয়ে যায়। যাত্রীও কম, আয় প্রায় নেই বললেই চলে।

একই কথা জানান রাজশাহী মহানগরীর কোর্টবাজার এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শীতের জন্য কাজে যেতে পারছি না। সকালে ঘর থেকে বের হওয়া দায়। কাজ না থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

শীতের কষ্টে বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক ও শিশুরাও। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থান করা ষাটোর্ধ্ব শহিদা বেগম বলেন, এত শীতে ছোট নাতিকে নিয়ে বাইরে আসতে হয়েছে। শরীর কাঁপছে, ঠান্ডা সহ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে কুয়াশার কারণে ভোরে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকেই হেডলাইট জালিয়ে প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। সে কারণে প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের চেয়ে আজ একদিনেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে গেছে। ফলে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তারমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬০০ মিটার। সকালজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করলেও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ।

এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে কুয়াশার প্রভাবে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ভোর থেকে রাস্তায় নামতে খুব কষ্ট হচ্ছে। হাত-পা অবশ হয়ে যায়। যাত্রীও কম, আয় প্রায় নেই বললেই চলে।

একই কথা জানান রাজশাহী মহানগরীর কোর্টবাজার এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শীতের জন্য কাজে যেতে পারছি না। সকালে ঘর থেকে বের হওয়া দায়। কাজ না থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

শীতের কষ্টে বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক ও শিশুরাও। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থান করা ষাটোর্ধ্ব শহিদা বেগম বলেন, এত শীতে ছোট নাতিকে নিয়ে বাইরে আসতে হয়েছে। শরীর কাঁপছে, ঠান্ডা সহ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে কুয়াশার কারণে ভোরে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকেই হেডলাইট জালিয়ে প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। সে কারণে প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।