বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬,
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁ-৫ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

  • নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান, জয়পুরহাট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর তাদেরকে পৃথকভাবে এ নোটিশ দেন।

দুই প্রার্থীর কাছেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কোনো প্রতিবেদন পাঠানো হবে না কিংবা অপরাধ আমলে নিয়ে কেন বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে না-সে বিষয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নওগাঁ ভবনে অবস্থিত সিভিল জজ আদালত, বদলগাছী কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে জবাব দিতে।

জামায়াতের প্রার্থীকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আ সব ম সায়েম নওগাঁ-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আ স ম সায়েমের ছবি এবং ‘দাড়ি পাল্লায় ভোট দিন’ লেখা লোগো সংকলিত ছবি তৈরি করে এ্যাড, আ স ম সায়েম নামের ফেসবুক পেজ থেকে গত ১০ ও ৩ জানুয়ারি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি নওগাঁ-৫ সংসদীয় আসন পরিদর্শনের সময় নওগাঁ সদর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানসহ বিভিন্ন যানবাহনের (অটো, রিকশা, সিএনজি) পিছনে নাম ও ছবিসংবলিত স্টিকার এবং পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে আ সব ম সায়েম নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মর্মেও কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম বলেন, ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছ থেকে একটি নোটিশ পেয়েছি। যে-সব পোস্টার দেখতে পেয়েছেন, সেগুলো তফশিল ঘোষণার আগে লাগানো ছিল। তফশিল ঘোষণার পর অনেক ব্যানার-পোস্টার সরিয়েছি। তারপরও কিছু পোস্টার হয়ত থেকে গেছে। যে সব অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি এক মিলাদ মাহফিলে জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতে এক বক্তা বিএনপির পক্ষে ভোট চায়। এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় নওগাঁ পৌরসভায় এক দোয়া ও মিলাত মাহফিলে আমাদের দলের এক নেতা বিএনপির পক্ষে ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরাসরি আমার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়নি। যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

নওগাঁ-৫ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েমকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান, জয়পুরহাট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর তাদেরকে পৃথকভাবে এ নোটিশ দেন।

দুই প্রার্থীর কাছেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কোনো প্রতিবেদন পাঠানো হবে না কিংবা অপরাধ আমলে নিয়ে কেন বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে না-সে বিষয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নওগাঁ ভবনে অবস্থিত সিভিল জজ আদালত, বদলগাছী কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে জবাব দিতে।

জামায়াতের প্রার্থীকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আ সব ম সায়েম নওগাঁ-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আ স ম সায়েমের ছবি এবং ‘দাড়ি পাল্লায় ভোট দিন’ লেখা লোগো সংকলিত ছবি তৈরি করে এ্যাড, আ স ম সায়েম নামের ফেসবুক পেজ থেকে গত ১০ ও ৩ জানুয়ারি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি নওগাঁ-৫ সংসদীয় আসন পরিদর্শনের সময় নওগাঁ সদর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানসহ বিভিন্ন যানবাহনের (অটো, রিকশা, সিএনজি) পিছনে নাম ও ছবিসংবলিত স্টিকার এবং পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে আ সব ম সায়েম নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মর্মেও কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম বলেন, ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছ থেকে একটি নোটিশ পেয়েছি। যে-সব পোস্টার দেখতে পেয়েছেন, সেগুলো তফশিল ঘোষণার আগে লাগানো ছিল। তফশিল ঘোষণার পর অনেক ব্যানার-পোস্টার সরিয়েছি। তারপরও কিছু পোস্টার হয়ত থেকে গেছে। যে সব অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি এক মিলাদ মাহফিলে জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতে এক বক্তা বিএনপির পক্ষে ভোট চায়। এই কার্যক্রম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় নওগাঁ পৌরসভায় এক দোয়া ও মিলাত মাহফিলে আমাদের দলের এক নেতা বিএনপির পক্ষে ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরাসরি আমার বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়নি। যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে ১৮ তারিখে সশরীর হাজির হয়ে আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।’