শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাই চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের অন্যতম সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে খবর পান যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পাল নওগাঁ শহরের তাজের মোড় এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একটি মাইক্রোবাস দিয়ে তার গতিরোধ করে প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জেলা পুলিশের সদ্য স্থাপিত এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সিসিটিভি ফুটেজ ও টোল প্লাজার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাসচালক মো. জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন জানান, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করে নওগাঁ পর্যন্ত আসে। সুভাষ পাল ঢাকার কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাসে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হলে চক্রটি কালো মাইক্রোবাসে বাসটিকে অনুসরণ করে। পরে নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর তাজের মোড় এলাকায় তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করলে ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে সাড়ে ১৯ লাখ টাকার ট্রাক্টর উধাও, তদন্তে পুলিশ

এআই ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাই চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের অন্যতম সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে খবর পান যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পাল নওগাঁ শহরের তাজের মোড় এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একটি মাইক্রোবাস দিয়ে তার গতিরোধ করে প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়।

এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জেলা পুলিশের সদ্য স্থাপিত এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সিসিটিভি ফুটেজ ও টোল প্লাজার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাসচালক মো. জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন জানান, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করে নওগাঁ পর্যন্ত আসে। সুভাষ পাল ঢাকার কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাসে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হলে চক্রটি কালো মাইক্রোবাসে বাসটিকে অনুসরণ করে। পরে নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর তাজের মোড় এলাকায় তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করলে ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।