বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্দাইলে বিনিয়োগের নামে কোটি টাকার প্রতারণা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভুয়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি উধাও হয়ে যাওয়ায় মূলধন হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিন শতাধিক পরিবারের সদস্য।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা এলাকায় সিনেমা হলসংলগ্ন একটি অফিস ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ‘জেএমজে’ (JMJ) নামের একটি অ্যাপের প্রচারণা চালানো হয়। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যুবক-যুবতীসহ সাধারণ মানুষকে মূলত টার্গেট করে গ্রাহক সংগ্রহ করত তারা।

চক্রটির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বলা হতো, ‘জেএমজে’ অ্যাপে ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা লাভ পাওয়া যাবে। একইভাবে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৫৮ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। শুরুতে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি।

পরবর্তীতে গ্রাহকদের মধ্যে আরও বিশ্বাস তৈরি করতে প্রায় দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা মহল্লায় শিক্ষক বাদল দত্তের মার্কেটে একটি কক্ষ ভাড়া নেয় তারা। সেখানে ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে নতুন অফিস খোলা হয়। নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেখানে গ্রাহক বাড়ানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে অ্যাপটির মূল সার্ভারে সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কয়েকজন গ্রাহক অফিসে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে উঁকি দিয়ে তারা দেখতে পান, আসবাবপত্রসহ অফিসের প্রায় সবকিছু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হাহাকার দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী মনির মিয়া, জুবায়ের হোসেন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, ‘জেএমজে’ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে কোনো পরিচয়পত্র বা ছবি প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন থাকলেই নগদ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করা যেত। বেশি লাভের আশায় তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন অফিস বন্ধ এবং অ্যাপটিও কাজ করছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত ইছমত জাহান তাপসীর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নান্দাইলে বিনিয়োগের নামে কোটি টাকার প্রতারণা

প্রকাশের সময় : ১১:১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ভুয়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি উধাও হয়ে যাওয়ায় মূলধন হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিন শতাধিক পরিবারের সদস্য।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা এলাকায় সিনেমা হলসংলগ্ন একটি অফিস ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ‘জেএমজে’ (JMJ) নামের একটি অ্যাপের প্রচারণা চালানো হয়। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যুবক-যুবতীসহ সাধারণ মানুষকে মূলত টার্গেট করে গ্রাহক সংগ্রহ করত তারা।

চক্রটির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বলা হতো, ‘জেএমজে’ অ্যাপে ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা লাভ পাওয়া যাবে। একইভাবে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৫৮ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। শুরুতে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি।

পরবর্তীতে গ্রাহকদের মধ্যে আরও বিশ্বাস তৈরি করতে প্রায় দেড় মাস আগে চণ্ডীপাশা মহল্লায় শিক্ষক বাদল দত্তের মার্কেটে একটি কক্ষ ভাড়া নেয় তারা। সেখানে ‘জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ নামে নতুন অফিস খোলা হয়। নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেখানে গ্রাহক বাড়ানো হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে অ্যাপটির মূল সার্ভারে সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কয়েকজন গ্রাহক অফিসে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে উঁকি দিয়ে তারা দেখতে পান, আসবাবপত্রসহ অফিসের প্রায় সবকিছু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হাহাকার দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী মনির মিয়া, জুবায়ের হোসেন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, ‘জেএমজে’ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে কোনো পরিচয়পত্র বা ছবি প্রয়োজন হতো না। শুধু স্মার্টফোন থাকলেই নগদ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করা যেত। বেশি লাভের আশায় তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন অফিস বন্ধ এবং অ্যাপটিও কাজ করছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত ইছমত জাহান তাপসীর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।