শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২৫৫ ভোটে জয়ী মির্জা ফখরুল

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এতে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট গণনা করা হয়। বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩৪৩ জন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাশের আসনে থাকা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্য সংসদ সদস্যরাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে পরস্পর কোলাকুলি করতেও দেখা যায়। পরে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির নিজস্ব ভোটের চেয়ে ১১ ভোট বেশি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মোট ভোটের চেয়ে ১১টি ভোট বেশি পেয়েছেন।

বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন ভোট দিয়েছেন মির্জা ফখরুলকে। এতে বিএনপির নিজস্ব ভোট দাঁড়ায় ২৪৪টি।

এর বাইরে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে তিনটি, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে সাতটি এবং ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের একটি ভোট পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের ভোট দাঁড়ায় ২৫৫টি।

অন্যদিকে অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ছয় সংসদ সদস্য ভোট দেননি

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে ভোট দিলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।

নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাদের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া ওসমান ফারুক, মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াতের বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহান ভোট দেননি।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় দীর্ঘদিনের সেই ধারার অবসান হলো। ফলে ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

নির্বাচনে জয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। একই সঙ্গে তার মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও শেষ হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটবে। বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনে শেষবারের মতো অফিস করেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে চার গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২৫৫ ভোটে জয়ী মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ১১:০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এতে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট গণনা করা হয়। বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩৪৩ জন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে হাত নেড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাশের আসনে থাকা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্য সংসদ সদস্যরাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে পরস্পর কোলাকুলি করতেও দেখা যায়। পরে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির নিজস্ব ভোটের চেয়ে ১১ ভোট বেশি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মোট ভোটের চেয়ে ১১টি ভোট বেশি পেয়েছেন।

বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন ভোট দিয়েছেন মির্জা ফখরুলকে। এতে বিএনপির নিজস্ব ভোট দাঁড়ায় ২৪৪টি।

এর বাইরে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে তিনটি, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে সাতটি এবং ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের একটি ভোট পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের ভোট দাঁড়ায় ২৫৫টি।

অন্যদিকে অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ছয় সংসদ সদস্য ভোট দেননি

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে ভোট দিলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।

নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাদের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া ওসমান ফারুক, মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াতের বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহান ভোট দেননি।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় দীর্ঘদিনের সেই ধারার অবসান হলো। ফলে ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল

নির্বাচনে জয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। একই সঙ্গে তার মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও শেষ হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটবে। বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনে শেষবারের মতো অফিস করেন।