শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

  • শরণখোলা (বাগেরহাট)
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনে সক্রিয় দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের কাছ থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের ৬৭৬ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।

আত্মসমর্পণকারীদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। নিজেদের জীবন রক্ষার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশায় এসব দস্যু আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, এর আগে কয়েক দফায় সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৯৬ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নতুন করে ১২ জন আত্মসমর্পণ করায় চলতি বছরে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে। একই সময়ে নিয়মিত অভিযানে আরও ২৯ জন দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

সুন্দরবনে এখনো যেসব দস্যু বাহিনী সক্রিয় কিংবা আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

এদিকে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

মান্দায় কাগজপত্র ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণ, এক লাখ টাকা জরিমানা

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে সক্রিয় দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের কাছ থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের ৬৭৬ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।

আত্মসমর্পণকারীদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল, খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। নিজেদের জীবন রক্ষার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশায় এসব দস্যু আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, এর আগে কয়েক দফায় সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৯৬ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নতুন করে ১২ জন আত্মসমর্পণ করায় চলতি বছরে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে। একই সময়ে নিয়মিত অভিযানে আরও ২৯ জন দস্যুকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

সুন্দরবনে এখনো যেসব দস্যু বাহিনী সক্রিয় কিংবা আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

এদিকে আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।