
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ২২৫ জন গর্ভবতী নারী ও কিশোরীর মাঝে ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে এসব কিট বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি এনজিও এএফএডির সমন্বয়কারী রেশমা সুলতানা, অ্যাডভোকেসি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক, সাদেকুন নাহার, আজিমা বেগম, ওবায়দুর রহমানসহ অন্যরা।
এএফএডির সমন্বয়কারী রেশমা সুলতানা জানান, হাতিয়া ইউনিয়নের চরগুজিমারী, জলন্ধারকুটি, চর অনন্তপুর, নীলকণ্ঠ, দাগারকুটি, শ্যামপুর, বকসীপাড়া, রামখানা, কামারটারী, দিগলহাইল্যা, নয়াগ্রাম, হাতিয়া ভবেশ, মিয়াজিপাড়া, গাবুরজান ও গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন চরে এসব কিট বিতরণ করা হয়।
তিনি জানান, নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার জন্য একটি বালতিতে ১৩ ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবান, পেস্ট, ব্রাশ, ব্যাগ, টর্চলাইট, স্যান্ডেল, চিরুনি, নেইল কাটার, আন্ডারগার্মেন্টস, গামছা ও স্যানিটারি প্যাডসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
জলন্ধারকুটি চরের কিশোরী রোকসানা বলেন, প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রী তাদের অনেক কাজে লাগবে। কিট পেয়ে তারা আনন্দিত।
দাগারকুটি গ্রামের কিশোরী আলতাফুন নাহার বলেন, বন্যার সময় নারীদের মর্যাদা ও সুরক্ষায় এসব উপকরণ খুবই প্রয়োজন। চরাঞ্চলে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হলেও এবার পাওয়া উপকরণগুলো তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. আরিফ বলেন, প্রকল্পের আওতায় দুর্গম এলাকার নারী ও কিশোরীদের বাছাই করে এসব কিট দেওয়া হয়েছে।
উপকরণগুলোর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে। পাশাপাশি বন্যার সময় নিরাপদে থাকার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। চরাঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের এগিয়ে নিতে হবে।
স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি)-এর ‘টুগেদার হোয়েফা’ প্রকল্পের উদ্যোগে বন্যাকবলিত চরাঞ্চলের কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের নির্বাচন করে এসব ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হয়।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 


















