
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে সরকারি (বিসিআইসি) সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় ১৫ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যানের চালক ও এক ক্রেতাকে স্থানীয় কৃষকরা আটক করেন। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই সার ও গাড়ি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তারা সার কিনতে গেলে ডিলারের দোকানে সার নেই বলে জানানো হয়। অনেক সময় বেশি দাম দিয়েও সার পাওয়া যায় না। অথচ মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স থেকে নিয়মিত জেলার বাইরে সার পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি দেখে বৃহস্পতিবার কৃষকরা সারবাহী অটোভ্যানটি আটক করেন।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কিছু ডিলার সরকারি সার পাচার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সারের সংকট তৈরি হচ্ছে।
সার আটকের পর ডিলারের লোকজন বিভিন্নভাবে তা ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে লোক পাঠানোর কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পর ডিলারের পক্ষের নাজমুল নামে এক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার কোমর থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র পড়ে যায় এবং কোমরে থাকা একটি রিভলভারও দৃশ্যমান হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে সারের গাড়িটি নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, নাজমুল গোয়ালন্দের জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়ার ছেলে এবং তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডলও আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আটক সার মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরাই সার বিক্রির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তিনি আর অফিসে আসেননি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ। একই সঙ্গে সার ছাড়াতে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও গুরুতর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে বলা হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি 


















