
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ট্রলার ডুবে রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলারে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রায়েশা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তার মরদেহ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
নিখোঁজ চারজন হলেন হেলাল মিয়া (৫৪), তার দুই ছেলে সজিব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)।
স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়া গ্রামের এক স্বজনের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন একটি ট্রলারে করে রওনা দেন। তাদের সঙ্গে বিয়ের বাজারের পাশাপাশি দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল।
ট্রলারটি সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় কারখানার একটি ট্রলার এগিয়ে এসে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগমসহ পাঁচজন নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, বিয়েবাড়ির বাজার ও গবাদিপশু নিয়ে ট্রলারটি আসার পথে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। সোনারগাঁ থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও নদী উত্তাল থাকায় এবং সন্ধ্যা নেমে আসায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। ফলে রাতের মতো ডুবুরিদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।




















