শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশের চড়া দাম, সাধ থাকলেও সাধ্য নেই

রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে ইলিশ খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতাই তা কিনতে পারছেন না।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ও মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকায়। সে হিসাবে একটি মাছ কিনতেই ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে বড় আকারের একটি ইলিশ কিনতে খরচ হচ্ছে দুই হাজার টাকারও বেশি।

ক্রেতারা বলছেন, ইলিশের বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। পরিবারের জন্য একটি ইলিশ কিনতে গেলেই বাজারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটায় টান পড়ছে। ফলে অনেকে দাম কমার আশায় ইলিশ না কিনেই বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

উত্তর বাড্ডা বাজারে ইলিশ কিনতে আসা রমজান আলী বলেন, ‘ইলিশের দাম অনেক বেশি। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছও কেজি দেড় হাজার টাকা। একটি মাছ কিনতেই প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা চলে যাচ্ছে। এই দামে নিয়মিত ইলিশ কেনা সম্ভব নয়।’

মধ্য বাড্ডার ক্রেতা ইলিয়াস বলেন, ‘এক কেজির ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। একটি মাছ কিনতে দুই হাজার টাকার বেশি লাগে। সংসারের অন্য খরচও আছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও ইলিশ কিনতে পারছি না।’

আরেক ক্রেতা মো. সাব্বির বলেন, ‘ইলিশ বাঙালির পছন্দের মাছ। কিন্তু দাম যদি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে কিনবে? দাম কিছুটা কমলে হয়তো কিনতে পারতাম।’

বিক্রেতারা জানান, ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে। অনেক ক্রেতা মাছের দাম শুনে আর কিনছেন না। কেউ কেউ বড় ইলিশের পরিবর্তে তুলনামূলক ছোট মাছ খুঁজছেন।

মধ্য বাড্ডার বিক্রেতা হারু দাস বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি আগের মতো নেই। ক্রেতারা এসে দাম জিজ্ঞেস করছেন, এরপর অনেকে আর কিনছেন না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছও কেজি দেড় হাজার টাকা হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে।’

উত্তর বাড্ডার বিক্রেতা মো. মিজান বলেন, ‘এক কেজির ওপরের ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। বড় মাছের দাম শুনে অনেকে ছোট মাছ খুঁজছেন।’

এদিকে বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, ভারতীয় ইলিশের স্বাদ ও মান দেশি ইলিশের মতো নয় বলে তারা তা কিনতে আগ্রহী নন। তাদের পছন্দ দেশি ইলিশ হলেও চড়া দামের কারণে সেটিও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

মাছ ক্রেতা মো. সিদ্দিকুর বলেন, ‘দেশি ইলিশের স্বাদ ভালো। ভারত থেকে আসা ইলিশ খেয়ে তেমন ভালো লাগেনি। তাই দেশি ইলিশই নিতে চাই। কিন্তু দেশি ইলিশের দাম এত বেশি যে চাইলেও কেনা যাচ্ছে না।’

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের প্রধান অভিযোগ, ইলিশের চড়া দাম নিয়ে। তাদের ভাষ্য, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের কেজি যদি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার ২০০ টাকা হয়, তাহলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য নিয়মিত ইলিশ কেনা কঠিন।

সব মিলিয়ে বাজারে ইলিশের ক্ষেত্রে যেন ‘সাধ আছে, সাধ্য নেই’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

ইলিশের চড়া দাম, সাধ থাকলেও সাধ্য নেই

ইলিশের চড়া দাম, সাধ থাকলেও সাধ্য নেই

প্রকাশের সময় : ১২:২৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে ইলিশ খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতাই তা কিনতে পারছেন না।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ও মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকায়। সে হিসাবে একটি মাছ কিনতেই ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে বড় আকারের একটি ইলিশ কিনতে খরচ হচ্ছে দুই হাজার টাকারও বেশি।

ক্রেতারা বলছেন, ইলিশের বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। পরিবারের জন্য একটি ইলিশ কিনতে গেলেই বাজারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটায় টান পড়ছে। ফলে অনেকে দাম কমার আশায় ইলিশ না কিনেই বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

উত্তর বাড্ডা বাজারে ইলিশ কিনতে আসা রমজান আলী বলেন, ‘ইলিশের দাম অনেক বেশি। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছও কেজি দেড় হাজার টাকা। একটি মাছ কিনতেই প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা চলে যাচ্ছে। এই দামে নিয়মিত ইলিশ কেনা সম্ভব নয়।’

মধ্য বাড্ডার ক্রেতা ইলিয়াস বলেন, ‘এক কেজির ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। একটি মাছ কিনতে দুই হাজার টাকার বেশি লাগে। সংসারের অন্য খরচও আছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও ইলিশ কিনতে পারছি না।’

আরেক ক্রেতা মো. সাব্বির বলেন, ‘ইলিশ বাঙালির পছন্দের মাছ। কিন্তু দাম যদি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে কিনবে? দাম কিছুটা কমলে হয়তো কিনতে পারতাম।’

বিক্রেতারা জানান, ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় বিক্রি কমেছে। অনেক ক্রেতা মাছের দাম শুনে আর কিনছেন না। কেউ কেউ বড় ইলিশের পরিবর্তে তুলনামূলক ছোট মাছ খুঁজছেন।

মধ্য বাড্ডার বিক্রেতা হারু দাস বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি আগের মতো নেই। ক্রেতারা এসে দাম জিজ্ঞেস করছেন, এরপর অনেকে আর কিনছেন না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছও কেজি দেড় হাজার টাকা হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে।’

উত্তর বাড্ডার বিক্রেতা মো. মিজান বলেন, ‘এক কেজির ওপরের ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি। বড় মাছের দাম শুনে অনেকে ছোট মাছ খুঁজছেন।’

এদিকে বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা গেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, ভারতীয় ইলিশের স্বাদ ও মান দেশি ইলিশের মতো নয় বলে তারা তা কিনতে আগ্রহী নন। তাদের পছন্দ দেশি ইলিশ হলেও চড়া দামের কারণে সেটিও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

মাছ ক্রেতা মো. সিদ্দিকুর বলেন, ‘দেশি ইলিশের স্বাদ ভালো। ভারত থেকে আসা ইলিশ খেয়ে তেমন ভালো লাগেনি। তাই দেশি ইলিশই নিতে চাই। কিন্তু দেশি ইলিশের দাম এত বেশি যে চাইলেও কেনা যাচ্ছে না।’

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের প্রধান অভিযোগ, ইলিশের চড়া দাম নিয়ে। তাদের ভাষ্য, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের কেজি যদি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার ২০০ টাকা হয়, তাহলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য নিয়মিত ইলিশ কেনা কঠিন।

সব মিলিয়ে বাজারে ইলিশের ক্ষেত্রে যেন ‘সাধ আছে, সাধ্য নেই’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।