
আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন নিখোঁজ হন। এর মধ্যে রাশিদা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের আরও চারজন।
নিহত রাশিদা বেগম কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। নিখোঁজ চারজন হলেন—হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল উদ্দিন (৫৪), তাঁর ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে অংশ নিতে ১৪ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বিয়ের জন্য ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসিও নেওয়া হচ্ছিল।
বিকেলে সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে মেঘনায় প্রচণ্ড ঢেউ সৃষ্টি হয়ে ট্রলারে পানি উঠতে থাকে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সেখান থেকে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া শিরিন বেগম বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা ১৪ জন আত্মীয় ট্রলারে করে রওনা হয়েছিলেন। সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার এসে তাঁদের উদ্ধার করে।
নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ অভিযান শুরু করে। রাত হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার দিনভর পুনরায় অভিযান চালানো হলেও নিখোঁজদের কারও মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ডুবে যাওয়া স্টিলবডি ট্রলারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে শুক্রবার দিনভর অভিযান চালানো হলেও কোনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একজন নিহত ও চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও থানা-পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, দুর্ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদী সীমানায় ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হোমনা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের উদ্ধারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 


















