সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্তদের অবস্থান

নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি অংশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা।

এর আগে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান তারা। এরপর বেলা ১১টা থেকে সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে রোববারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ ব্যাচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। ভেরিফিকেশনের পর অন্তত ২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তবে আন্দোলনকারীদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় আট মাস বেকার থাকার পর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, যারা ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম কিংবা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী তাদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

কেন ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে নিয়োগের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের এ নিয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেন তারা।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের বলে জানাচ্ছে, মন্ত্রণালয় জেলা শিক্ষা অফিসের কথা বলছে। আবার জেলা শিক্ষা অফিস দায়িত্ব অধিদপ্তরের বলে জানাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন করে ভেরিফিকেশনের নামে সময়ক্ষেপণ না করে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান এবং ১ অক্টোবর সব যোগ্য প্রার্থীকে একসঙ্গে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। এদিকে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের দিকে গেছে বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নওগাঁয় শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্তদের অবস্থান

প্রকাশের সময় : ০৩:১৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একটি অংশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা।

এর আগে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে যান তারা। এরপর বেলা ১১টা থেকে সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে রোববারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ ব্যাচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। ভেরিফিকেশনের পর অন্তত ২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তবে আন্দোলনকারীদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় আট মাস বেকার থাকার পর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, যারা ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম কিংবা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী তাদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

কেন ২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে নিয়োগের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের এ নিয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেন তারা।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের বলে জানাচ্ছে, মন্ত্রণালয় জেলা শিক্ষা অফিসের কথা বলছে। আবার জেলা শিক্ষা অফিস দায়িত্ব অধিদপ্তরের বলে জানাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন করে ভেরিফিকেশনের নামে সময়ক্ষেপণ না করে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান এবং ১ অক্টোবর সব যোগ্য প্রার্থীকে একসঙ্গে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। এদিকে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের দিকে গেছে বলে জানানো হয়েছে।