সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে ৫৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে পাঠদান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর রাণীনগরে ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টি বিদ্যালয়ের ভবনের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও আবার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ ছাড়া একটি বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসেন জানান, ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করা হয় বর্তমান ভবন। নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর না পেরোতেই ভবনটিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে পুরো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাসেও নতুন ভবন বা বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়েছে।

উপজেলার ৩৮ নম্বর কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান চলছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনের কক্ষে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ওই কক্ষেও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন, ‘মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় পুরো ছাদ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে কয়েক দিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দিইনি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে পাঠালেও সন্তান বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়।’ শিশুদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরদার কয়া ও বড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেবড়া কালীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়সার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষিকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসপারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর মালঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালশাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝগ্রাম মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাণীনগর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ইতোমধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নতুন করে তালিকা তৈরি এবং সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ধরন অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিনের বেড়া দিয়ে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নওগাঁয় শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

রাণীনগরে ৫৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে পাঠদান

প্রকাশের সময় : ০৪:২১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগরে ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টি বিদ্যালয়ের ভবনের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও আবার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ ছাড়া একটি বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসেন জানান, ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করা হয় বর্তমান ভবন। নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর না পেরোতেই ভবনটিতে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে পুরো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাসেও নতুন ভবন বা বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হয়েছে।

উপজেলার ৩৮ নম্বর কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান চলছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনের কক্ষে দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ওই কক্ষেও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন, ‘মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় পুরো ছাদ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে কয়েক দিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দিইনি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে পাঠালেও সন্তান বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়।’ শিশুদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরদার কয়া ও বড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেবড়া কালীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসকামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়সার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষিকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসপারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর মালঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালশাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝগ্রাম মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাণীনগর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ইতোমধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বিদ্যালয় পরিদর্শন করে নতুন করে তালিকা তৈরি এবং সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ধরন অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিনের বেড়া দিয়ে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।