
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। গরু পাচারের সময় তাঁদের আটক করে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করেন বলে আহতদের বরাতে জানা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে রংপুরে নেওয়া হয়। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিককে পুলিশ পাহারায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, উলিপুরের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারের সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের গুলি করেন। গুলিতে তাঁরা মাটিতে পড়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের মৃত ভেবে চলে যান বলে আহতরা জানিয়েছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা গোপনে রংপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বিশেষ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তি হলেন—ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর বড়বালু এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীম ও ইসমাইল হোসেন। সূত্রমতে, আব্দুল আলীম ওই এলাকার আব্দুল মজিদ মন্ডলের ছেলে এবং ইসমাইল হোসেন মৃত আব্দুল করিম শেখের ছেলে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় দুই নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, “এরকম ঘটনা শুনেছি। তবে বিজিবি কোনো তথ্য জানায়নি। বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দেখছে।”
এদিকে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক বলেন, “সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।”
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

















