বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আত্রাইয়ে ১৩৩ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা

বর্ষায় কাদা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় দুর্ভোগ, থমকে আছে গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়ন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মোট প্রায় ৩৫৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৩২ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এখনো কাঁচা রয়েছে। বছরের পর বছর এসব গ্রামীণ সড়ক পাকা না হওয়ায় চলাচল ও মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। ফলে এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নও অনেকটা থমকে আছে।

তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ও জনদুর্ভোগপূর্ণ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলো একনেক সভায় অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কাঁচা সড়কই পাকাকরণ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলায় মোট ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা। এছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বন্ড, ৪ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট, ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক এবং ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। এছাড়া পতিসর-সমসপাড়া পাকা সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে ২ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১ কিলোমিটার, হাটকালুপাড়া জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এবং চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। এছাড়া পারকাসুন্দা-বিলগলিয়া সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কাঁচা সড়ক রয়েছে।

বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ বলেন, গত ৪০ বছর ধরে শুনছি ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির সড়কটি পাকা হবে। অথচ এখনো পাকা হয়নি। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে অন্তত ৫ থেকে ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল ও মালামাল পরিবহন করেন। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। এরপরের অংশ এখনো কাঁচা। সড়কটি কয়েকবার পাকাকরণের জন্য এলাকাবাসী উদ্যোগ নিলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।

বিলগলিয়া গ্রামের আসেকুর রহমান বলেন, বিলগলিয়া মোয়াজ্জেমের মোড়ের পাকা সড়কের মাথা থেকে ছামাদের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।

আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিষ কুমার বলেন, গুরুত্ব ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কাঁচা সড়কই পাকাকরণ করা হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

আত্রাইয়ে ১৩৩ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা

বর্ষায় কাদা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় দুর্ভোগ, থমকে আছে গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়ন

প্রকাশের সময় : ১২:৩৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মোট প্রায় ৩৫৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৩২ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এখনো কাঁচা রয়েছে। বছরের পর বছর এসব গ্রামীণ সড়ক পাকা না হওয়ায় চলাচল ও মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। ফলে এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নও অনেকটা থমকে আছে।

তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ ও জনদুর্ভোগপূর্ণ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলো একনেক সভায় অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কাঁচা সড়কই পাকাকরণ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলায় মোট ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা। এছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বন্ড, ৪ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট, ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক এবং ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। এছাড়া পতিসর-সমসপাড়া পাকা সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে ২ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত প্রায় সোয়া ১ কিলোমিটার, হাটকালুপাড়া জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এবং চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। এছাড়া পারকাসুন্দা-বিলগলিয়া সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কাঁচা সড়ক রয়েছে।

বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ বলেন, গত ৪০ বছর ধরে শুনছি ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির সড়কটি পাকা হবে। অথচ এখনো পাকা হয়নি। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে অন্তত ৫ থেকে ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল ও মালামাল পরিবহন করেন। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান বলেন, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। এরপরের অংশ এখনো কাঁচা। সড়কটি কয়েকবার পাকাকরণের জন্য এলাকাবাসী উদ্যোগ নিলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।

বিলগলিয়া গ্রামের আসেকুর রহমান বলেন, বিলগলিয়া মোয়াজ্জেমের মোড়ের পাকা সড়কের মাথা থেকে ছামাদের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।

আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিষ কুমার বলেন, গুরুত্ব ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কাঁচা সড়কই পাকাকরণ করা হবে।