
নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগরে পৃথক ঘটনায় প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে আত্রাইয়ে শিক্ষকের বাসার তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরি এবং রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার দুই কর্মকর্তাকে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে আত্রাই উপজেলার চকশিমলা গ্রামের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বাসায় তালা দিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁয় মেয়ের বাসায় বেড়াতে যান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রধান দরজার তালা খোলা। ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
পরে আলমারি খুলে গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, হাতের আংটিসহ মোট চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং চার ভরি রুপার পায়ের নূপুর না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৯ লাখ টাকা বলে দাবি করেন শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চোরেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সিরাজুল ইসলাম। আত্রাই থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর-আদমদীঘি সড়কের পারইল ব্রিজ এলাকায় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার এজেন্ট ফিরোজ হোসেনের দাবি, শাখার ক্যাশিয়ার নাজমুল হোসেন (৩২) ও অফিস সহকারী রাসেল বাবু (২৮) বগুড়ার সান্তাহার শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করে মোটরসাইকেলে করে আবাদপুকুর ফিরছিলেন।
পারইল ব্রিজের দক্ষিণে একটি মোবাইল টাওয়ারের কাছে পৌঁছালে সামনে ও পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত চার ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। পরে লোহার রড দিয়ে দুই কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাদের কাছে থাকা ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় পথচারীরা আহত দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত নাজমুল হোসেন রাণীনগর উপজেলার একডালা গ্রামের মোস্তাক আলীর ছেলে এবং রাসেল বাবু একই উপজেলার অলংকারদীঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
পারইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু দূরেই ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আহত দুই কর্মকর্তাকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি রাণীনগর থানার ওসিকে ফোনে জানান।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তকরে দেখা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















