
সুনামগঞ্জে নেশার টাকা না দেওয়ায় ঘুমন্ত মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে নুরুল আলমের (৪৫) বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নুরুল আলমকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
নিহত রেজিয়া খাতুন (৭০) কাইয়ারগাঁও গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত হাসান উদ্দিনের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নুরুল আলম মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মা রেজিয়া খাতুনের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। শুক্রবার ভোরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সময় নুরুল ঘুম থেকে উঠে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত মায়ের ওপর হামলা চালান। এ সময় মায়ের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেন তিনি।
রেজিয়া খাতুনের চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায়। তাঁরা ঘরে গিয়ে দেখতে পান, রেজিয়া খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। এ সময় নুরুল আলম পালানোর চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান। পরে গ্রামবাসী ও স্বজনেরা তাঁকে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী জানান, নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, নেশার টাকার জন্য মা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে নুরুল আলম তাঁর মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রেজিয়া খাতুনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 


















