শনিবার, ০৯ মে ২০২৬,
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব নেন।

এদিন রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।

এ পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক দলটির স্থায়ী কমিটির বৈটক শুরু হয়। বৈঠকে তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।

২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে ‘যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’

সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর’ মতো একটি ঘটনা, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনি কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়, যা দলের ভেতরে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

দেশের মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ-লড়াই করলেও পরিবর্তন আসেনি -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

প্রকাশের সময় : ১০:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব নেন।

এদিন রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়।

এ পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক দলটির স্থায়ী কমিটির বৈটক শুরু হয়। বৈঠকে তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।

২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে ‘যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’

সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর’ মতো একটি ঘটনা, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনি কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়, যা দলের ভেতরে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।