
নাটোরের গুরুদাসপুরে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১১৭৩ নম্বর পেয়েও উপজেলা প্রশাসনের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার তালিকায় স্থান পায়নি সুমাইয়া জাহান। অথচ তার চেয়ে কম নম্বর পাওয়া আট শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুমাইয়া। পরে বিষয়টি নিয়ে বিব্রত জেলা প্রশাসক ক্রেস্ট বিতরণ স্থগিতের ঘোষণা দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার।
সুমাইয়া জাহান গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১৭৩ নম্বর পেয়ে সে উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার তালিকায় তার নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জানা যায়, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আট শিক্ষার্থীর একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন। সেই তালিকা অনুযায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সুমাইয়া জাহান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তব্য দেয়।
এ সময় সুমাইয়া জানায়, শুধু সে একাই নয়, তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরও অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী এ সংবর্ধনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের কোনো কৃতী শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় রাখা হয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত কষ্টের বলে জানায় সে।
সুমাইয়ার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি বলেন, ‘তার নাম তালিকায় আসা দরকার ছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি আমাকে জানানো দরকার ছিল। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও আমাকে জানাতে পারতেন।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘বারবার নম্বর যোগ করে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু সুমাইয়ার মার্কশিট, নম্বর ও আবেদন—কোনোটাই আমার কাছে আসেনি। এখন জানতে পেরেছি, সুমাইয়াই প্রথম হবে এবং সম্মাননা ও ক্রেস্ট তাকে প্রদান করা হবে। এ কারণে সংবর্ধনার সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ স্থগিত করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার বলেন, সুমাইয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের মার্কশিট, ছবি ও আবেদন সরবরাহ না করায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তালিকায় স্থান পায়নি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা চেয়ে তাঁকে অবগত করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত হন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, এত সুন্দর আয়োজনের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা; এগুলোর মূল্য দিতে হবে। এগুলো এমনভাবে না করি, যাতে তাদের মন খারাপ হয়। এগুলো আমাদের শিখতে হবে। আমরা কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নই, ভুল হতে পারে; কিন্তু দেখতে হবে, সৎ ইচ্ছা ছিল কি না।’
সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর নাম কৃতী শিক্ষার্থীদের তালিকায় না থাকায় জেলা প্রশাসক বিব্রত বলে মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় সংবর্ধনার ক্রেস্ট বিতরণ স্থগিত করা হয়।
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 


















