
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। পাশাপাশি বন্ধ কল-কারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকদের সহায়তা এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পানিসংকট নিরসনে পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণ
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পানিসংকটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির সংকট নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চালু হবে বন্ধ কল-কারখানা, বাড়বে কর্মসংস্থান
দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন ও বেকারত্ব কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ মাসে সারাদেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কল-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
কৃষকদের জন্য চালু হবে ‘কৃষক কার্ড
কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা, ফসলের বীমা, ব্যাংকঋণ এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড
পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের মায়ের নেতৃত্বে একটি পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে পর্যায়ক্রমে গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং পুরো দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব হবে।
উপজেলা হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা
দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা এবং ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ মানুষ স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পানিসংকট নিরসন, শিল্পায়ন, কৃষকদের সহায়তা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী 


















