বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালকিনি কলেজে ৫ গাছ কাটায় তোলপাড়, দায় নিয়ে অধ্যক্ষ-ইজারাদারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড়ের মূল্যবান কয়েকটি গাছ সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গাছ কাটার দায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পুকুরের ইজারাদারের মধ্যে পরস্পরকে দায়ী করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে পুকুরপাড়ে কেটে রাখা গাছের গুঁড়ি ও কাঠ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পুকুরপাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বড় মেহগনি ও একটি চাম্বুল গাছ রয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কাটার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও পুরো ঘটনার দায় নিতে রাজি নন। তার দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ইজারাদারকে একটি নির্দিষ্ট গাছ কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু তার অজান্তে ইজারাদার কীভাবে আরও চারটি গাছ কেটে ফেলেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অধ্যক্ষ ও ইজারাদারের বক্তব্যে এমন ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুরপাড়ের মূল্যবান গাছ কাটার আগে যথাযথ সরকারি অনুমোদন ও নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। অথচ তা না করে গাছ কেটে ফেলায় কলেজের পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ বলেন, “কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক সরকারি গাছ কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কার নির্দেশে এবং কী প্রক্রিয়ায় গাছগুলো কাটা হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

নওগাঁয় চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুই ক্লিনিককে জরিমানা

কালকিনি কলেজে ৫ গাছ কাটায় তোলপাড়, দায় নিয়ে অধ্যক্ষ-ইজারাদারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড়ের মূল্যবান কয়েকটি গাছ সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গাছ কাটার দায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পুকুরের ইজারাদারের মধ্যে পরস্পরকে দায়ী করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে পুকুরপাড়ে কেটে রাখা গাছের গুঁড়ি ও কাঠ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পুকুরপাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বড় মেহগনি ও একটি চাম্বুল গাছ রয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কাটার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও পুরো ঘটনার দায় নিতে রাজি নন। তার দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ইজারাদারকে একটি নির্দিষ্ট গাছ কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু তার অজান্তে ইজারাদার কীভাবে আরও চারটি গাছ কেটে ফেলেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অধ্যক্ষ ও ইজারাদারের বক্তব্যে এমন ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুরপাড়ের মূল্যবান গাছ কাটার আগে যথাযথ সরকারি অনুমোদন ও নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। অথচ তা না করে গাছ কেটে ফেলায় কলেজের পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ বলেন, “কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক সরকারি গাছ কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কার নির্দেশে এবং কী প্রক্রিয়ায় গাছগুলো কাটা হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।