
মাছ ধরার জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া একটি অজগরকে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিলে অজগরটি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে রুমন মিয়ার মাছ ধরার জালে অজগরটি আটকা পড়ে। রাতের অন্ধকারে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় সকালে বিষয়টি সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দরকে জানান তিনি। পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাহের আলী সব্দর ও নৌকার মাঝি হায়েদ মিয়ার সহযোগিতায় সতর্কতার সঙ্গে জাল কেটে অজগরটিকে মুক্ত করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় অজগরটি সম্পূর্ণভাবে জালমুক্ত হয়।
উদ্ধারের পর অজগরটির শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাত পাওয়া যায়নি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে অজগরটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সময়মতো খবর পাওয়ায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। খাদ্যসংকট এবং বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের ওপর মানুষের চাপ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চলের জমি দখল করে বসতি, রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। এতে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বন্যপ্রাণী লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় বিষধর শঙ্খচূড়সহ বড় আকারের অজগর মিলিয়ে প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি 





















