রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী-নাটোর পরিবহন বিরোধে বন্ধ দূরপাল্লার বাস, বিপাকে যাত্রীরা

নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এ অচলাবস্থার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে বাস আটকে রাখা নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে নাটোরে রাজশিয়া থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিকপক্ষ।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছালে সেটি আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জেরে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। পরে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এদিকে শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দূরপাল্লার যাত্রীরা এসে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, আগে থেকেই বাসের টিকিট নেওয়া ছিল। কাউন্টারে এসে জানতে পারেন বাস ছাড়বে না। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

আরেক যাত্রী তানভীর আহমেদ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

পরিবহন শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মালিকদের বিরোধের প্রভাব শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের ওপরও পড়ছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে পরিবহন সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

রাজশাহী-নাটোর পরিবহন বিরোধে বন্ধ দূরপাল্লার বাস, বিপাকে যাত্রীরা

রাজশাহী-নাটোর পরিবহন বিরোধে বন্ধ দূরপাল্লার বাস, বিপাকে যাত্রীরা

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এ অচলাবস্থার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে বাস আটকে রাখা নিয়ে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে নাটোরে রাজশিয়া থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিকপক্ষ।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছালে সেটি আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জেরে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। পরে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এদিকে শনিবার সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দূরপাল্লার যাত্রীরা এসে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, আগে থেকেই বাসের টিকিট নেওয়া ছিল। কাউন্টারে এসে জানতে পারেন বাস ছাড়বে না। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

আরেক যাত্রী তানভীর আহমেদ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

পরিবহন শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মালিকদের বিরোধের প্রভাব শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের ওপরও পড়ছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুই জেলার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে পরিবহন সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।