মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম রাউজানে এই গভীর নলকূপের গর্তে মিসবাহ নামের শিশু পড়ে গেছে। ছবি- সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মেজবাহ মারা গেছে। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মেজবাহ উদ্দিন (৩) ওই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাড়ির আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে চার থেকে পাঁচ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য একটি গর্ত খোঁড়া হয়। তবে নানা কারণে সেখানে আর নলকূপ বসানো হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা ভরাট বা নিরাপদ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বুধবার বিকেল আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার এক পর্যায়ে শিশুটি ওই পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে জানানো হলে সন্ধ্যার পর রাউজান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার সরঞ্জাম ও বিশেষ ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ক্যামেরার সাহায্যে গর্তের প্রায় ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও এতে যুক্ত হন।
উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার অংছিং মারমার উপস্থিতিতে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গর্ত থেকে তুলে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাজান বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ অর্ধেকেরও কম

চট্টগ্রামে গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মেজবাহ মারা গেছে। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মেজবাহ উদ্দিন (৩) ওই গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাড়ির আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরে চার থেকে পাঁচ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য একটি গর্ত খোঁড়া হয়। তবে নানা কারণে সেখানে আর নলকূপ বসানো হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি খোলা অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা ভরাট বা নিরাপদ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বুধবার বিকেল আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার এক পর্যায়ে শিশুটি ওই পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে জানানো হলে সন্ধ্যার পর রাউজান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার সরঞ্জাম ও বিশেষ ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ক্যামেরার সাহায্যে গর্তের প্রায় ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও এতে যুক্ত হন।
উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার অংছিং মারমার উপস্থিতিতে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

গর্ত থেকে তুলে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাজান বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।